ইসলাম: কিছু জিজ্ঞাসার জবাব এবং বিশ্বাসের কারণ (সাধারণ কিছু জিজ্ঞাসা)

মুক্তমনার লেখক “রাইট হার্ট” এর লেখা “ইসলাম: কিছু জিজ্ঞাসা এবং অবিশ্বাসের কারণ” বইটিতে ইসলাম নিয়ে উক্ত বিষয়ে উত্থাপিত প্রশ্ন,অভিযোগ,অপবাদ জবাব হিসেবে এ লেখাটি

প্রশ্ন – ১

বর্তমানে বিশ্বে মাত্র 150 million আরবি ভাষাভাষি মানুষ আছে । আল্লাহ কেন এমন একটা ভাষায় কুরআন নাজিল করলেন না যেটাতে অধিক মানুষ কথা বলে, যেমন English (350 million), Mandarin (800 million), Spanish (358 million), Hindi (200 million) কিংবা Russian (160 million) ?

জবাব :

প্রথমত, আল্লাহ্‌ই এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেনঃ

Quran (41:44) “If we made it a non-Arabic Quran they would have said, “Why did it come down in that language?” Whether it is Arabic or non-Arabic, say, “For those who believe, it is a guide and healing. As for those who disbelieve, they will be deaf and blind to it, as if they are being addressed from faraway.”

দ্বিতীয়ত, কু’রআন নাজিল করা হয়েছে আরবে। সেখানে ইংলিশে কু’রআন পাঠানোর কোন মানে হয় না। সুতরাং আপনার প্রশ্নটা হওয়া উচিত ছিল – কেন কু’রআন লন্ডনে পাঠানো হয়নি ইংরেজিতে? সেই প্রশ্নের উত্তর দেবার আগে বলুন লন্ডনে পাঠালে কি লাভ হত যেটা আরবে পাঠায়ে হয়নি? অনুমান করে বলবেন না। সঠিক পরিসঙ্খান দিয়ে আপনার প্রত্যেকটা কথার প্রমাণ দিবেন।

তৃতীয়ত, ভালো করে আরবি এবং ইংরেজি শিখলে বুঝতে পারবেন ইংরেজি থেকে আরবি কত সুক্ষ এবং যথার্থ ভাষা ঐশ্বরিক বাণী পাঠাবার জন্য।

কোরআন এর পরে আর কোন নির্দেশনা আসবে না আল্লাহের কাছ থেকে। একেবারে পৃথিবী শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত এর কথাগুলো মানুষের কাছে পৌছানো জরুরী। আল্লাহ (সকল প্রশংসা তার জন্য) বলেছেন তিনি নিজেই এর হেফাজতকারী। তিনি জানেন কোরআনকে সংরক্ষণের শ্রেষ্ঠ উপায় ।

কোরআন নাযিল হল ৬০০ সালের দিকে । চলুন তো দেখি বর্তমানের ‘গ্লোবাল ল্যাংগুয়েজ ‘ ইংরেজীতে কোরআন নাযিল হলে কি হ্ত? ইংরেজি ভাষার শুরু হয় ৪০০ সালের দিকে ।একটা নতুন বা্চ্চা ভাষা যা তখনও কেবল শুরু হচ্ছে ,যার ব্যবহার করে খুব সীমিত মানুষ। সেই ভাষাতে কোরান নাযিল হলে হ্য়তো কোরান হয়তো এখন টিকে থাকত না(আল্লাহ ভালো জানেন)। কারণ সেই সময়ের ইংরেজী(Old English) আর এখনকার ইংরেজিতে বিস্তর ফারাক । ঐ ইংরেজি এখনকার নেটিভ লোকজনই বুঝে না। তখনকার ইংরেজি বর্ণমালা দেখলে আপনার চোখ কপালে উঠে যাবে। Old English এর উদাহরণ দেখুন :

The Lord’s Prayer in Old English
Fæder ure
ðu ðe eart on heofenum
si ðin nama gehalgod
to-becume ðin rice
geweorþe ðin willa on eorðan swa swa on heofenum.
Urne ge dæghwamlican hlaf syle us to-deag
and forgyf us ure gyltas
swa swa we forgifaþ urum gyltendum
ane ne gelæde ðu us on costnunge
ac alys us of yfle. :wacko:
(The Lord’s Prayer [“Our Father”] in Old English)

এই হল তখনকার ইংরেজি ভাষা । কি বর্ণমালা চিনতে পারলেন ?? এই ভাষা কি এখন প্রচলিত?? না,এটি এখন বিলুপ্ত ভাষা। Old English এ এখন একটি মানুষও কথা বলে না ।এই ইংরেজি প্রচলিত ছিল ৪০০-১১০০ পর্যন্ত।তাহলে আল্লাহ কি এমন এক ভাষায় কোরান নাযিল করবেন যে ভাষার এমন পরিবর্তন হবে যে সে ভাষার বর্তমান ভাষাভাষিরা ভাষাটির পুরাতন ভার্সনকে বুঝবে না? না কি এমন একটি ভাষা বেছে নেবেন যা তখনও প্রচলিত ছিল,এখনও আছে,এবং ভবিষ্যতেও থাকবে । আরবী হল এমনই একটি ভাষা । এই কারণেই হ্য়তো আরবীকে বেছে নেওয়া ।

অন্যান্য ভাষা গুলোর ইতিহাসেও এমন পরিবর্তনের উদাহরণ দেখতে গুগল ঘাটুন।৬০০ সালের দিকে ভাষা গুলোর অবস্থা এবং বর্তমান অবস্থা তুলনা করুন।আশা করি লজিকটি বুঝতে পারবেন ।

যে ভাষাতেই কোরান নাযিল হোত না কেন…তা কেবল একটি গোষ্ঠীরই মাতৃভাষা হত। বিশাল অংশের জন্যই তা হত ফরেন ভাষা।

বর্তমানের কোন ভাষা কবে মৃত হবে তা কেউ বলতে পারে না । কিন্তু একটি জিনিস আমি বলতে পারি, আরবী ভাষা নিস্চিত ভাবেই অপরিবর্তিত হয়ে টিকে থাকবে। এর এমন কোন কোন পরিবর্তন হবে না যে একসময় কোরানের ভাষাটি বোঝার মত লোক থাকবে না….কেননা আল্লাহ বলেছেন তিনি কোরানের সংরক্ষণ করবেন।আর আরবী ভাষা মৃত ভাষায় পরিণত হলে মনে হয় না তা সম্ভব

আমার প্রশ্ন হলো -আমরা কেন এখন সেকেন্ড লান্গুএইজ হিসেবে ইংলিশ শিখি? কেন বেশি সংখ্যক মানুষ ইংলিশ থেকে Mandarin ভাষায় কথা বলা সত্তেও আমরা Mandarin ভাষা শিখি না? এই প্রশ্ন আপনার মাথায় এসেছে কি?

আপনার কথা মতে, বেশি সংখ্যক মানুষের ভাষা বলে আল্লাহ তা’আ লা যদি মান্দরিন ভাষায় কুরআন নাজিল করতেন, তাহলে আপনি যৌক্তিক মনে করতেন,তাই না? আপনি মান্দরিন ভাষার সাথে আরবী ভাষার তুলনা করুন , তাহলেই বুঝবেন আরবিতে করে আমাদের জন্য সহজ হয়েছে, নাকি মাদরিন ভাষায় করলে সহজ হতো!আপনাকে যদি এই দুটি ভাষার মধ্যে যে কোনো একটিকে বেছে নিতে বলা হয়, তাহলে আপনি কোনটাকে বেছে নিবেন? বেশির ভাগ মানুষ কোনটিকে বেছে নিবে বলে মনে হয়?

কুরআন কেন আরবীতে নাযিল হইলো? Why was the Qur’an revealed in Arabic?
আল্লাহ তা’লা কুরআনে বলেছেন:

“We have sent it down as an Arabic Qur’an so you people may understand / use reason” [The Noble Qur’an, Surat Yusuf12:2]

“..and recite the Quran in slow, measured rhythmic tones.” —Quran 73:4

যদি অন্য ভাষায় রচিত হত তবুও পৃথিবীর বেশির ভাগ মানুষ সেটা বুঝতে পারতো না।যেমন ইংরেজি ভাষায় রচিত হলে, যারা ইংরেজি জানেনা তারা তো আর সেটা বুঝতে পারতো না।অর্থাৎ যেকোনো ভাষায় রচিত হলে, কোরআন বেশির ভাগের মাতৃভাষার বিরুদ্ধে হত,আর আন্তর্জাতিক ভাষা নিয়ে কিছু বলার প্রয়োজন নেই কারণ সময়ের প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক ভাষা যে বদলাবে না তার কোন গ্যারান্টি নেই।[আরবি ভাষা অনেক শ্রুতিমধুর এবং গবেষণার জন্য উপযোগী তাই মহান আল্লাহ এই ভাষা সিলেক্ট করছেন ]
আজকের একজন সাধারণ বাঙ্গালীকে যদি চর্যাপদ পড়তে দেয়া হয় তিনি তার কতোটুকু বুঝবেন ? সাধারণ বাঙ্গালী কেন চর্যাপদের একেকটি শব্দের অর্থ খুজে বের করতে ভাষা গবেষকদেরও ঘাম ছুটে যায় । অথচ এই চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত এবং তা প্রায় কুরআন নাযিলের সমসাময়িক । একইভাবে বর্তমান যুগের ইংরেজি ভাষাভাষীদের জন্য ওল্ড ইংলিশও একেবারে দুর্বোধ্য । ভাষার একটি সহজাত বৈশিষ্ট্য হল পরিবর্তন হওয়া । আর এই পরিবর্তন ঘটে মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী । বর্তমান যুগে প্রচলিত ভাষাগুলো এতো দ্রুত পরিবর্তিত হয়েছে যে এক হাজার বছর আগের ভাষার রুপটি বর্তমান যুগে দুর্বোধ্য । শুধুমাত্র আরবী ভাষা এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম । চৌদ্দশ বছরে এই ভাষা খুব সামান্যই পরিবর্তন হয়েছে । একজন সাধারণ অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন আরব ব্যাক্তিও কুরআন পড়ে অনেকটাই বুঝতে পারে। যদি এমন একটি বই রচনা করতে হয় যা হাজার হাজার বছর ধরে মানুষের কাছে বোধগম্য হবে তাহলে নিশ্চয়ই এমন ভাষাকেই চয়ন করতে হবে যা হাজার হাজার বছর ধরে প্রচলিত এবং অপরিবর্তিত থাকবে ।

প্রশ্ন – ২

আল্লাহ কেন মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চল গুলোতেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকম্প গুলো ঘটিয়ে থাকেন ? যদি এটা তাদের বিশ্বাসের পরিক্ষা নেওয়াই হয়ে থাকে, তবে এর ফলে যে নিরীহ মহিলা ও বাচ্চাগুলো মারা যাচ্ছে সেটা কি বৈষম্যের পর্যায়ে পড়ে না ? (Out of the 10 most deadly earthquakes in the last 50 years, 6 of the 8 countries affected were populated by a Muslim majority. Peter Hough – Understanding Global Security)

জবাবঃ প্রথমত,তথ্যটা সম্পূর্ণ বানোয়াট https://en.m.wikipedia.org/wiki/Lists_of_earthquakes
দ্বিতীয়ত,এমন কোন কথা নেই যে মুসলিমদের উপর আসবে,অমুসলিমদের উপর আসবে না,বাচ্চাদের উপর প্রাকৃতিক দূর্যোগ আসবে না ইত্যাদি।যদি আল্লাহ সরাসরি মুসলিম বাচ্চাদের রক্ষার্থে এসে যেত তবে দুনিয়া আর আখিরাতে কি পার্থক্য থাকল? তাছাড়া মুসলিম/অমুসলিম থেকে জন্ম নেয়া যেকোনো শিশুই জান্নাতে যাবে।এতে বাচ্চাদের উপর গজব দেখা যায়?নাকি সামান্য কষ্টের পরিমাণে চিরসুখ লাভ করার রাস্তা দেখা যায়?
.
জবাব(২)ঃপ্রথমত, গত একশ বছরে সবচেয়ে ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, এরকম টপ ১০টি ভুমিকম্পের মাত্র একটা মুসলিম এলাকায়ঃ
.
Top 30 earthquakes in the World:
.
ZONE MAGNITUDE YEAR
CHILE 9.5 1960
ALASKA 9.2 1964
SUMATRA 9.1 2004
JAPAN 9.0 2011
RUSSIA 9.0 1952
CHILE 9.0 1868
CHILE 8.8 2010
ECUADOR 8.8 1906
COLOMBIA 8.8 1906
PORTUGAL 8.7 1755
http://www.world-earthquakes.com/index.php?option=ethq_statistics
.
জাপান কোন মুসলিম দেশ নয়। সবচেয়ে বেশি ভূমিকম্প হয় জাপানে।
.
Seismic world activity for earthquakes with M6.5+ magnitude:
.
ZONE AVERAGE MAGNITUDE SEISMIC PERCENTAGE ACTIVITY
JAPAN 7.12 9.5989 % VERY HIGH
INDONESIA 7.13 6.7335 % HIGH
CHILE 7.56 5.1576 % AVERAGE
TURKEY 7.01 5.1576 % AVERAGE
MEXICO 7.28 4.2980 % AVERAGE
PAPUA NEW GUINEA 6.96 4.1547 % AVERAGE
CHINA 7.39 3.4384 % LOW
ALASKA 7.70 3.1519 % LOW
PERU 7.52 3.1519 % LOW
CALIFORNIA 7.04 3.0086 % LOW
.
পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ১০টি ভূমিকম্প প্রবণ জায়গাগুলোর মধ্যে মাত্র ২টি মুসলমান দেশ বলা যেতে পারে।
.
দ্বিতীয়ত, যেখানেই টেক্টনিক প্লেটের সংঘর্ষ হয়, সেখানেই ভুমিকম্প হয় । সেখানে মুসলমান থাকুক আর হিন্দুরাই থাকুক, কিছুই যায় আসে না। আজকে যদি সব মুসলমান সেখান থেকে সরে যায় এবং হিন্দুরা গিয়ে সেখানে থাকা শুরু করে, তখন ভুমিকম্পটাও সেখান থেকে সরে যাবে না। আল্লাহ তাঁর বানানো মহাবিশ্বের নিয়ম, পদার্থ বিজ্ঞানের আইন নিজেই নির্ধারণ করে সেটা নিজেই সবসময় ভাঙবেন, সেটা কেমন ন্যায়পরায়ণ সৃষ্টি কর্তার নিদর্শন হল?
.
তৃতীয়ত, তিনি যদি মুসলিম দেশগুলোকে সবরকম প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাঁচিয়ে রাখতেন তাহলে কারও কোন সন্দেহ থাকতো না আল্লাহর সম্পর্কে। এরকম পরিস্কার নিদর্শন মানুষকে দিলে মানুষের আর বিশ্বাস করার কোন প্রয়োজন পড়ে না এবং মানুষকে পরিক্ষা করার প্রয়োজন সেখানেই শেষ হয়ে যেত। পৃথিবী তৈরি করার উদ্দেশ্য হল মানুষকে পরিক্ষা করা।

প্রশ্ন – ৩
মুসলিম দেশ গুলোতে ভুমিকম্পের ফলে যখন মসজিদ গুলো ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়, তখন তার প্রতিরক্ষায় আল্লাহ কেন কোন ব্যবস্থা নেন না ?

জবাবঃ এ প্রশ্নের জবাব আমি ২য় প্রশ্নের উত্তরেই বুঝিয়ে দিয়েছি।তবুও আবার সংক্ষেপে বলি,”আল্লাহ এ দুনিয়া বানিয়েছেন পরীক্ষা করার জন্য তাই তিনি সাধারণ,প্রাকৃতিক নিয়মকেই বজায় রাখবেন।তিনি সরাসরি এ দুনিয়ায় হস্তক্ষেপ করবেন না।তিনি যদি সরাসরি হস্তক্ষেপ করতেন তাহলে ত পরীক্ষাটাই মূল্যহীন হয়ে যেত।তখন দুনিয়া আর আখিরাতের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকত না।দুনিয়াই আখিরাতে পরিণত হয়ে যেত।

প্রশ্ন – ৪

বর্তমানে মুসলিম দের সাথে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ চলছে বিভিন্ন দেশে : Hindus in Kashmir / Christians in Nigeria, Egypt, and Bosnia / Atheists in Chechnya / Baha’is in Iran / Animists in Darfur / Buddhists in Thailand / each other in Iraq, Pakistan, Somalia, and Yemen / Jews in Israel. কেন মুসলিমরা সর্বদাই এমন গোড়ামিপূর্ণ এবং ধর্মীয় সংঘর্ষে লিপ্ত যেখানে অন্য ধর্মের অনুসারীরা নয় ?

জবাব :
আপনি কিছু মূর্খের ব্রেইন ওয়াসের স্বীকার। এই আর্টিকেলটি পড়ুনঃ http://www.loonwatch.com/2010/01/terrorism-in-europe/

কে কি করল সেটা দিয়ে ইসলাম হয় নাকি!!!পৃথিবীর সব মানুষ খারাপ হয়ে গেলেও কিছু নয়, উল্টো কিয়ামতের আলামত।

ইসলাম হচ্ছে জীবনবিধান, যে এটা মেনে চলে সে হচ্ছে মুসলিম যে মানেনা সে মুসলিম নয়, ইসলাম অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধের স্বীকৃতি দেয়, ফালতু প্যাঁচাল করতে নয়।

আর ইসলাম, ধর্মের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি নিষেধ করছে, যারা বাড়াবাড়ি করবে তারা মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হবেনা।কিন্তু এখানে দেখতে হবে তারা কি কারণে লড়াই করছে, এপ্রিলফুল আপনি(সেই প্রশ্নকারী) ভুলে যেতে পারেন কিন্তু সবাই ভুলবে না, তারা হয়তো মুসলিমদের নিরাপত্তা দিতে চাচ্ছে..।

এটা হয়তো আপনার (প্রশ্নকারী) জানা আছে,যদি কোন অপরাধ ইহুদী-খ্রিষ্টানরা করে সেটা অনুচিত কাজ আর মুসলিমরা করলে মানবতাবিরুধী,সাথে সাথে তাদের পরিচয় হয়ে যায় জংগি!!!!

প্রশ্ন – ৫
আল্লাহর ঘর ‘কাবা’ (Quran 3:96) মুহম্মদের মৃত্যুর পর কয়েকবার ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় ! কাবার কালো পাথর (Black stone) বিদীর্ণ হয় বহু খন্ডে, Qarmatians-রা সেটা চুরি করে এবং বহু বছর পরে তার বিনিময়ে মুক্তিপন আদায় করে ! সর্ব শক্তিমান আল্লাহ কেন সমগ্র মুসলিম জাহানের এই পবিত্র ঘর এবং পাথর কে বাঁচাতে কোন ধরনের পদক্ষেপ নিলেন না ?

http://­en.wikipedia.org/­wiki/­Kaaba#After_Muhammad
http://­www.al-islam.org/­kaaba14/1.htm
http://­en.wikipedia.org/­wiki/­Black_Stone#History_a­nd_tradition

জবাবঃ খেয়াল করলে দেখা যায়।লেখক একই প্রশ্ন ঘুরিয়ে ফিরিয়ে করে মাঝখান দিয়ে প্রশ্নের ভান্ডার বাড়িয়ে পাঠককে বিভ্রান্ত করা চেষ্টা করেছে।একই ধরনের প্রশ্ন ২ ও ৩ নং এ করা হয়েছে।এভাবে লেখকের ভন্ডামীর চেয়ে মূর্খতারই প্রমাণ বেশি পায়।তবু আবারও বিষয়টা পরিষ্কার করছি

একজন মুসলিম সে বিশ্বাস করে এই জগতে প্রাকৃতিক ভালো মন্দ সকল কিছু আল্লাহর তরফ থেকেই আসে।
এই মুহুর্ত্যে আপনার আমার কাছে যা খারাপ মনে হচ্ছে তা হয়তো সত্যিকার অর্থে খারাপ নয়।
হয়তো বর্তমান এই খারাপের মধ্যে ভবিষ্যতের ভালো কিছুর জন্ম হচ্ছে।
যেমন বহুদেশে প্লাবণ হয়, তাতে ঘর বাড়ি পানিতে তলিয়ে যায়,খেত খামার ফল নষ্ট হয়। কিন্তু এই প্লাবণের মাধ্যমে মাটিকে অধিক উর্বর করে দেয়া হয়, যা ক্ষয় ক্ষতি হয়েছিল, এর চেয়ে কয়েক গুন বেশী প্রাপ্তি হয়।
প্রাকৃতিক ধ্বংস লিলাকে মানুষ নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, দেখা যাচ্ছে একটি নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হলে আরেকটি নতুন সমস্যা দেখা দিচ্ছে, বা মানুষ এই গুলো প্রতিরোধ করতে গিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে।
যদি প্রাকৃতিক দূর্যোগ না থাকলে মানুষ চরম আত্মকেন্দ্রিক হয়ে যেত, একে অন্যকে ধ্বংসে মেতে উঠত। প্রাকৃতিক দূর্যোগ মানুষকে তার অসহাত্বতার কথা স্মরণ করিয়ে রাখে এর মোকাবেলাতে সংঘবদ্ধতার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে বলেই একজন অন্য জনের প্রতি মানবতাবোধ জাগ্রত করে রাখে।
মুসলিমদের সব চেয়ে মুল্যবান কাবাঘর, যা আবরাহ ধ্বংস করতে এসেছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল কাবার অনুরূপ আর একটি প্রার্থনা গৃহ বানাতে চেয়েছিল। কিন্ত আল্লাহ আবাবিল পাখির দ্বারা পাথর কুচি নিক্ষেপণ করে তাদের ধ্বংস করেছিলেন। সে কাবাঘর কত কত বার প্রাকৃতিক দূর্যোগ এ ধ্বংস হয়েছিল।আল্লাহ এ দুনিয়া বানিয়েছেন পরীক্ষা করার জন্য তাই তিনি সাধারণ,প্রাকৃতিক নিয়মকেই বজায় রাখবেন।তিনি সরাসরি এ দুনিয়ায় হস্তক্ষেপ করবেন না।তিনি যদি সরাসরি হস্তক্ষেপ করতেন তাহলে ত পরীক্ষাটাই মূল্যহীন হয়ে যেত।তখন দুনিয়া আর আখিরাতের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকত না।দুনিয়াই আখিরাতে পরিণত হয়ে যেত।

প্রশ্ন – ৬

“The 100 : A Ranking of the Most Influential Persons in History” বই এর লেখক Michael H. Hart । এতে প্রথম পজিশনে আছে ইসলাম ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা মুহম্মদ (সঃ), যেটা উল্লেখ করে সকল মুসলিম আত্মতৃপ্তি লাভ করেন !

Michael H. Hart দাবি করেছেন যে, দুটো কারনে তিনি মুহম্মদ কে নাম্বার ১ পজিশনে রেখেছেন –

১) যুদ্ধের নেতৃত্বে সফলতার জন্যে
২) কুরআন রচনা করে ইসলামের ধর্মতত্ব ও আইন প্রতিষ্ঠার জন্যে ।

মুসলিম হিসেবে আপনি কি এই দাবীর সাথে একমত ? যদি না হন, তবে মুহম্মদের এই প্রথম পজিশনে থাকায় আপনি কি এখন আর গর্বিত হবেন ??

জবাবঃ
প্রথমত, মুহাম্মদ (সাঃ)-কে যেহেতু এই মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তার মেসেঞ্জার হিসেবে বিশ্বাস করা হয় এবং তিনি যেহেতু কোরআনের মত ইউনিক একটি গ্রন্থ রেখে গেছেন এবং মাত্র চৌদ্দশ’ বছরে যেহেতু তাঁর দেড় বিলিয়নেরও বেশী ফলোয়ার আছে সেহেতু তাঁকে ‘দ্যা বেস্ট হিউম্যান’ ধরে নেয়ার পেছনে কাঠ-মুল্লাদের যথেষ্ট যুক্তি আছে। এক্ষেত্রে অস্বাভাবিকতার কিছু নাই। কিন্তু ছাগইল্যা-মুল্লারা যেটা জানে না সেটা হচ্ছে, সেই একই লিস্টে স্যার আইজ্যাক নিউটন, যীশুখ্রিস্ট, গৌতম বুদ্ধ, আইনস্টাইন, গ্যালিলিও, ও চার্লস ডারউইনের নাম যথাক্রমে দুই, তিন, চার, দশ, বারো, ও ষোল নাম্বারে আছে! এঁরা ছাড়াও বেশ কয়েকজন বিজ্ঞানীর নাম সেই লিস্টে আছে। ফলে মাইকেল হার্টস ‘দ্যা বেস্ট যোদ্ধা’র তালিকা করলে তো সেই তালিকায় এঁদের কারো নাম থাকার কথা নয়, যেহেতু এঁদের কেউ কখনো যুদ্ধ করেছেন বলে মনে হয় না! ফ্যানাটিক মিশনারিজ মুল্লারা সম্ভবত ‘Influential’ মানে ‘যোদ্ধা’ ধরে নিয়েছে! যে যেভাবে ভাবে আর কি!
যাহোক, মাইকেল হার্টস এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী প্রফেট মুহাম্মদের নাম এক নাম্বারে এসেছে। কিন্তু অন্য কারো বিশ্লেষণ অনুযায়ী তাঁর নাম যদি পাঁচ বা সাত নাম্বারে আসে তাহলে কি মুসলিমরা তাঁকে গডের মেসেঞ্জার হিসেবে বিশ্বাস করা ছেড়ে দেবে? মোটেও তা নয়!

দ্বিতীয়ত,মাইকেল এইচ হার্ট কেন মুহাম্মদ (স) কে তার লিস্টে ১ম স্থানে রেখেছেন তা তাঁর নিজের বক্তব্য দেখলেই বোঝা যায়।প্রশ্নকারীর বিকৃত বক্তব্যে না।

My choice of Muhammad to lead the list of the world’s most influential persons may surprise some readers and may be questioned by others, but he was the only man in history who was supremely successful on both the religious and secular level.
(Michael H. Hart, The 100: A Ranking of the Most Influential Persons in History)

প্রশ্নকারী/লেখক কীভাবে মাইকেল এইচ হার্ট এর বক্তব্য বিকৃত করে নিজের বক্তব্য ঢুকিয়ে দিয়েছে “যুদ্ধের নেতৃত্বে সফলতার জন্যে” এটি।অথচ মুহাম্মদ (স) কে ১ম স্থানে রাখার মূল কারণ হচ্ছে ধর্মীয় এবং সেকুলার লেভেলে সাফল্য অর্জনের জন্য।সেকুলার মানে কি যুদ্ধের নেতৃত্বে সাফল্যতা বোঝায়?

“তুমি কোথাও কোনো ভালো কাজ কর,উপকার কর,তবুও লোকে তোমার বদনাম করবে।গাছে ফল ধরে বলেই লোকে ঢিল মারে। শেওড়া গাছে কেউ ঢিল মারে না।” –শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক

প্রশ্ন – ৭
পবিত্র স্থান মক্কায় আল্লাহ কতৃক বন্যা ঘটানোর উদ্দেশ্য কি ? নিজের বান্দাদের ঈমানের পরীক্ষা নেওয়া ?

জবাব: লেখক এই নিয়ে ৪ বার একই প্রশ্ন ঘুড়িয়ে ফিরিয়ে করেছে।নাস্তিকরা কি অন্ধ না ভন্ড? প্রশ্নঃ ৫ এর জবাবটা দেখে নিন।

Advertisements

বাইবেলে বহু বিবাহ

বর্তমানে প্রচলিত একটি ভুল ধারণা হচ্ছে যে বাইবেলের New Testament এ বহুবিবাহ নিষিদ্ধ।অথচ New এবং Old Testament উভয়তেই বহু বিবাহ অনুমোদিত।অবশ্য বহু খ্রিষ্টান আছে এমনকি বহু খ্রিষ্টান সাইটও আছে যেখানে খ্রিষ্টানরা বহু বিবাহ শুধু স্বীকারই করে না বরং তা চর্চাও করে।অথচ খ্রিষ্টানরা হিন্দুদের মত নিজেদের ধর্মগ্রন্থ নিয়েই মিথ্যাচার করে এবং তার অপব্যাখ্যা পর্যন্ত দেয় এই নিয়ে যে বাইবেল বহু বিবাহ নিষিদ্ধ করে।

এক নজরে Old Testament এ বহু বিবাহ:

Exodus 21:10, a man can marry an infinite amount of women without any limits to how many he can marry.

2 Samuel 5:13; 1 Chronicles 3:1-9, 14:3, King David had six wives and numerous concubines.

1 Kings 11:3, King Solomon had 700 wives and 300 concubines.

2 Chronicles 11:21, King Solomon’s son Rehoboam had 18 wives and 60 concubines.

Deuteronomy 21:15 “If a man has two wives, and he loves one but not the other, and both bear him sons….”

Old Testament এ আরও বহু আয়াত আছে যা প্রমাণ করে যে বাইবেলে বহু বিবাহ অনুমোদিত কিন্তু আমার মনে হয় এ কয়েকটি আয়াত তা প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট।

New Testament এ বহু বিবাহ:

New Testament থেকে বহু বিবাহের আয়াত দেয়ার আগে আমি দেখাতে চাই যে যীশু (আ) Old Testament কে সম্মানও করতেন এবং তার অনুসারীদের (যাদের আমরা খ্রিষ্টান বলি) তা আদেশও করেছিলেন যে Old Testament এর আইনসমূহ অনুসরণ করতে।

যীশু (আ) বলেন,”Do not think that I have come to abolish the Law (the Old Testament) or the Prophets; I have not come to abolish them but to fulfill them. I tell you the truth, until heaven and earth disappear, not the smallest letter, not the least stroke or a pen, will by any means disappear from the Law (the Old Testament) until everything is accomplished. (Matthew 5:17-18)”

খ্রিষ্টানরা সবসময় অজুহাত দেয় এই বলে যে এটা হচ্ছে Old Testament এর কথা New Testament এর না।অথচ Matthew 5:17-18 এ আমরা পরিষ্কার দেখতে পাই যীশু (আ) তালমুদকে শুধু সম্মানই করত না বরং তা অনুসরণ করারও আদেশ দিয়েছেন।আর আমরা পরিষ্কার দেখতে পাই যে তালমুদ(Old Testament) বহু বিবাহ অনুমোদন করে।তাছাড়া New Testament এ একটাও আয়াত নেই যা বহু বিবাহ নিষিদ্ধ করে।খ্রিষ্টানরা ভুল করে নিচের আয়াতগুলো তুলে ধরে এটা প্রমাণ করার জন্য যে New Testament এ বহু বিবাহ নিষিদ্ধ।

Matthew 19:1-12
1. When Jesus had finished saying these things, he left Galilee and went into the region of Judea to the other side of the Jordan.
2. Large crowds followed him, and he healed them there.
3. Some Pharisees came to him to test him. They asked, “Is it lawful for a man to divorce his wife for any and every reason?”
4. “Haven’t you read,” he (Jesus)replied, “that at the beginning the Creator `made them male and female,’
5. and said, `For this reason a man will leave his father and mother and be united to his wife, and the two will become one flesh’ ?
6. So they are no longer two, but one. Therefore what God has joined together, let man not separate.”
7. “Why then,” they asked, “did Moses command that a man give his wife a certificate of divorce and send her away?”
8. Jesus replied, “Moses permitted you to divorce your wives because your hearts were hard. But it was not this way from the beginning.
9. I tell you that anyone who divorces his wife, except for marital unfaithfulness, and marries another woman commits adultery.”
10. The disciples said to him, “If this is the situation between a husband and wife, it is better not to marry.”
11. Jesus replied, “Not everyone can accept this word, but only those to whom it has been given.
12. For some are eunuchs because they were born that way; others were made that way by men; and others have renounced marriage because of the kingdom of heaven. The one who can accept this should accept it.”

উপরের আয়াতগুলো থেকে দেখতে পাই যীশু (আ) কে প্রশ্ন করা হয়েছিল একজন স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক দিতে পারে না Matthew 19:3 তে।যীশু (আ) সাথে সাথে তালমুদ থেকে সূত্র দিয়ে জবাব দিলেন Matthew 19:4 এ।তিনি আদম (আ) ও বিবি হাওয়ার কথা সূত্র হিসেবে দিলেন।তালমুদ ঠিকই আদম (আ) আর বিবি হাওয়ার কথা বলে একজন স্বামী ও একজন স্ত্রী হিসেবে।অবশ্য তালমুদের যে সূত্র দেয়া হয়েছে যীশু (আ) কর্তৃক Matthew 19:3 তে তা ঠিকই বহু বিবাহ অনুমোদন করে।আবারও যেখানে একজন পুরুষ তার স্ত্রীর সাথে একটি মাংস/মাংসপিন্ড হতে পারে Matthew 19:5-6 তে তার মানে এই না পুরুষটি অন্য স্ত্রীর সাথেও হতে পারবে না।সে একটি মাংস/মাংসপিন্ড হতে পারবে তার প্রথম স্ত্রীর সাথে,এবং তার দ্বিতীয় স্ত্রীর সাথে,এবং তার তৃতীয় স্ত্রীর সাথে এবং চলবে………..

বিষয়টা আরও শক্তভাবে প্রমাণ করতে New Testament এর আয়াতগুলো দেখা যাক

Matthew 22:23-32
23. That same day the Sadducees, who say there is no resurrection, came to him with a question.
24. “Teacher,” they said, “Moses told us that if a man dies without having children, his brother must marry the widow and have children for him.
25. Now there were seven brothers among us. The first one married and died, and since he had no children, he left his wife to his brother.
26. The same thing happened to the second and third brother, right on down to the seventh.
27. Finally, the woman died.
28. Now then, at the resurrection, whose wife will she be of the seven, since all of them were married to her?”
29. Jesus replied, “You are in error because you do not know the Scriptures or the power of God.
30. At the resurrection people will neither marry nor be given in marriage; they will be like the angels in heaven.
31. But about the resurrection of the dead–have you not read what God said to you,
32. `I am the God of Abraham, the God of Isaac, and the God of Jacob’ ? He is not the God of the dead but of the living.

Matthew 22:24-28 এ যীশু (আ) তালমুদ থেকে Deuteronomy 25:5 এর সূত্র দেন।যেখানে বলা আছে একজন স্ত্রীর স্বামী যদি মারা যায় এবং তাদের যদি কোন সন্তান না থাকে তবে তাকে তার স্বামীর ভাইকে বিয়ে করতে হবে সেখানে তার স্ত্রী থাকুক বা না থাকুক।যখন ইহুদীরা যীশু(আ) এর সামনে এই পরিস্থিতিটা আনল Matthew 22:24-28 এ তখন যীশু(আ) কিন্তু সন্তানহীন বিধবাকে তার স্বামীর ভাইয়ের সাথে বিয়ে মোটেই নিষিদ্ধ করেন নি(যদি স্বামীর ভাই বিবাহিত থাকত তাও) বরং যীশু (আ) তাদের জবাব দেন এই বলে যে আমরা স্বর্গে বিয়ে করব না এবং আমরা ফেরেশতাদের মত থাকত স্বর্গে(Matthew 22:30) তাই অন্য ভাষায় বলতে গেলে যদি যীশু (আ) একজন সন্তান বিধবার সাথে তার স্বামীর ভাইয়ের বিবাহ অনুমোদন করে(যদিও সে বিবাহিত হয়ে থাকে) তাহলে ত খ্রিষ্টান্দের এই দাবীটিই মিথ্যা প্রমাণ হয়ে যায় যে বাইবেল বহু বিবাহ নিষিদ্ধ করে(New Testament এ) একজন পুরুষ একটি মাংস/মাংসপিন্ড হতে পারবে একের অধিক নারীর সাথে।Matthew 22:24-28 এর ক্ষেত্রে একজন পুরুষ একটি মাংস/মাংসপিন্ড হতে পারবে তার স্ত্রীর সাথে,তার মৃত ভাইয়ের স্ত্রীর সাথে।আবার বিষয়টি মাথায় রাখি Exodus 21:10 একজন পুরুষকে অসংখ্যা নারী বিবাহ করার অনুমতি প্রদান করে এবং Deuteronomy 21:15 একজন পুরুষকে একের অধিক নারী বিবাহ করার অনুমতি প্রদান করে।

খ্রিষ্টানরা অনেক সময় এখানে দুইটি আয়াত দিয়ে বহু বিবাহ নিষিদ্ধ প্রমাণ করার চেষ্টা করে।অনেক খ্রিষ্টান এরূপ বক্তব্য উপস্থাপন করে-

“Matthew 19:8-9 এ যীশু খ্রিষ্টের ইঙ্গিত হচ্ছে বেঠিক তালাক একটা বিবাহকে নিষিদ্ধ করে না এবং যদি প্রথম বিবাহ টিকে থাকে তাহলে দ্বিতীয় বিবাহ ব্যভিচার হয়ে যায় ,বহু বিবাহ না।এটা খুবই পরিষ্কার।”

জবাবঃ

আয়াত দুটো দেখা যাক

Matthew 19:8-9
8 Jesus replied, “Moses permitted you to divorce your wives because your hearts were hard. But it was not this way from the beginning.
9 I tell you that anyone who divorces his wife, except for marital unfaithfulness, and marries another woman commits adultery.”

জবাবে আশার আগে বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য করা যাক।

প্রথমত, এটা খেয়াল করা খুবই জরুরী, যুক্তিগত এবং পাঠগত ভুল ধারণাগুলো উক্ত আয়াতগুলোতে।

“মূসা(আ) কিছুই অনুমোদন করেন নি” “Moses(pbuh) does not permit anything”

কল্পনা অনুসারে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরই তালমুদ এবং New Testament এ সব অনুমোদন করেছেন।ঠিক যে কারণে আমি এই বিষয়টি গুরুত্ব আকারে উপরে দিলাম আলাদাভাবে কারণ, হয়তবা বিষয়টিকে অনেক সামান্য মনে হতে পারে, কারণ এটা প্রমাণ করে যে কথা বা লেখাগুলো বর্তমান বাইবেলে(Gospel/Book) আছে সেগুল সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের পবিত্র,নির্ভুল,আসল বাণী না।এগুলো শুধু যেসব ঘটনা যীশু (আ) এর সময় ঘটেছিল সে সময়ের মানুষের দেয়া বক্তব্য এবং লেখার পুনর্লিখিত রূপ।তাই আপনি New Testament থেকে যা পড়েন তার মানে এখানে সব বুঝায় না কারণ এগুলো আসল লেখা না।এগুলো মানব রচিত।

তালমুদ তালাক সম্পর্কে যা বলে

Deuteronomy 24:1-3
1 If a man marries a woman who becomes displeasing to him because he finds something indecent about her, and he writes her a certificate of divorce, gives it to her and sends her from his house,
2 and if after she leaves his house she becomes the wife of another man,
3 and her second husband dislikes her and writes her a certificate of divorce,gives it to her and sends her from his house, or if he dies

এই আদেশ টা আসে Deuteronomy থেকে যা মূসা (আ) এর উপর নাযিল করা হয়েছিল।মূসা (আ) এর সকল Book এ আমরা এমন আয়াত পাই “The LORD of Israel declares…..” এবং তারপর একাধারে আদেশ দেয় যেমন Deuteronomy 24:1-3 তে

“In the fortieth year, on the first day of the eleventh month, Moses proclaimed to the Israelites all that the LORD had commanded him concerning them. ( NIV Bible, Deuteronomy 1:3)”

তাই মূসা (আ) এর কোন কিছু অনুমোদন করাটা বা না করাটা খুবই দূর্বল এবং পরস্পর সাংঘর্ষিক।আমি কিছু প্রমাণ দিয়েছি KJV এবং NIV বাইবেলের ইতিহাসবিদ এবং ধর্মতত্ত্ববিদ নিজেরা স্বীকার করেছে যে তালমুদ এবং New Testament এর লেখাগুলো অচেনা মানুষ দ্বারা লেখা হয়েছিল ।শুধু তাই না,বরং তারা এটাও স্বীকার করে যে বর্তমান বাইবেলে যেসব লেখা আছে তা আগের বাইবেলে কোন অস্তিত্বই ছিল না।পাঠকগণ চাইলে উক্তি এবং প্রমাণগুলো দেখে নিতে পারেন http://www.answering-christianity.com/authors_gospels.htm

যাই হোক,এবার জবাবে আসি।

আমি কিছুক্ষণের জন্য ধরে নিলাম আসলেই উক্ত আয়াতের ঘটনা যীশু (আ) এর সাথে ঘটেছিল।প্রথমত,এটা জানা খুবই জরুরী যে আয়াতগুলো কিন্তু বহু বিবাহ নিয়ে বলছে না।বলছে তালাক নিয়ে।এই সম্পূর্ণ সংলাপটাই অস্পষ্ট।এখানে কিছুই পরিষ্কার না।আমার কাছে এটা খুবই অস্পষ্ট শোনায় যদি এর দ্বারা কেউ বহু বিবাহ নিষিদ্ধ করে নিম্ন কারণগুলোর জন্য-

১) লেখার কোনো স্থানেই বহু বিবাহ নিষিদ্ধ না

২) সংলাপের ব্যক্তিটি যার সম্পর্কে যীশু (আ) বলেছেন নিজেও বহু বিবাহর মধ্যে থাকতে পারত যার কিনা বহু স্ত্রী আছে।এটা তাহলে বহু বিবাহ যে নিষিদ্ধ তা মিথ্যা প্রমাণ করে ফেলে

৩) খ্রিষ্টান্দের উক্ত আয়াতের বোগাস ব্যাখ্যার চেয়ে আরও পরিষ্কার হয়ে উঠে যদি এরূপ ব্যাখ্যা দেয়া হয় যে যীশু(আ) বহু বিবাহ চর্চা করে এমন মানুষদের আদেশ দিচ্ছে যে তারা কখনোই যেন তালাক না দেয় কারণ বিয়ে এক ধরনের পবিত্র বিষয় ঈশ্বরের নজরে।পুরুষরা কখনো তালাক দিবে না সাধারণ বিষয়ের জন্য যা আজকাল পশ্চিমারা করে থাকে।এবং তাদের জন্য যারা এরূপ শয়তানি কাজ করে তাদের শাস্তি হচ্ছে,নতুন আইন অনুসারে যে তারা আর কখনো বিয়ে করতে পারবে না কারণ তারা বিয়ের পবিত্রতা সম্মান করে নি।কিন্তু যদি ওই পুরুষ,হয়তবা বহু বিবাহে আবদ্ধ আছে,এবং তার স্ত্রীকে যদি তালাক না দিয়ে থাকে, তবে আয়াতের কোথাও তাকে অন্য নারীকে বিয়ে করতে নিষেধ করে না।আবারও,সম্পূর্ণ আয়াতটিই অস্পষ্ট এবং বহু বিবাহের চর্চাকারীদের প্রতি আরও পরিষ্কার হওয়া উচিৎ ছিল যদি সত্যিই এখানে বহু বিবাহ নিষিদ্ধ করা হয়ে থাকত(যা পুরাই মনগড়া ব্যাখ্যা)আরেকটি কথা,আবারও এটা জরুরী বোঝার জন্য যে উপরোক্ত আয়াতগুলো মোটেই ঈশ্বরকর্তৃক স্পষ্ট এবং ঐশ্বরিক বাণী না যা আমি আগে প্রমাণ করেছি।ওটা একটি মানবরচিত পুনর্লিখিত ব্যাখ্যা ছাড়া আর কিছুই নয় যা যীশু (আ) বলেছিল।উক্ত আয়াত বা যেই আয়াতই হোক সেটা যীশু (আ) এর কথা হোক বা না হোক,কল্পনা/ধারণা অনুসারে সেগুলো একমাত্র এবং শুধুই সর্বশক্তিমান ঈশ্বর থেকে এসেছে যদি খ্রিষ্টানরা সত্যিই সম্পূর্ণ বাইবেলকে ঈশ্বরের পবিত্র,স্পষ্ট,অবিকৃত এবং ঐশ্বরিক বাণী বলে বিশ্বাস করে।

সর্বশক্তিমান ঈশ্বর ভুল করতে পারেন না এবং এটা বলতে পারেন না যে “মূসা (আ) অনুমতি দিয়েছেন/Moses permitted” যেখানে এটা ঈশ্বরের নিজের পবিত্র এবং ঐশ্বরিক আইন ছিল।

New Testament এর কোথায় সরাসরি বহু বিবাহকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে? এবং যদি আমি এখন খ্রিষ্টান হয়ে যাই এবং আমার একের অধিক স্ত্রী থাকে(যা বহু সম্ভ্রান্ত মুসলিমদের ৪ জন থাকে) তাহলে কি আমাকে তাদের সকলকে তালাক দিয়ে মাত্র একজনকে রাখতে হবে?যদি না তবে ঠিক কীভাবে বহু বিবাহ New Testament এ নিষিদ্ধ হল,যেখানে সেটা আমার জন্য অনুমোদিত? আবার,বাইবেলের “সতীদের” নিয়ে এত বাড়াবাড়ি/গুরুত্ব কেন? আমি বলতে চাচ্ছি তালমুদে কেন অসতী নারী,পুরুষ এবং শিশুদের হত্যা করার কথা আছে এবং সতীদের সংরক্ষণ করার?

“Now kill all the boys [innocent kids]. And kill every woman who has slept with a man, but save for yourselves every girl who has never slept with a man. ( NIV Bible, Numbers 31:17)”

তালমুদে আমরা আবার দেখি একজন সতী তার ধর্ষককে বিয়ে করতে বাধ্য

“If a man happens to meet a virgin who is not pledged to be married and rapes her and they are discovered, he shall pay the girl’s father fifty shekels of silver. He must marry the girl, for he has violated her. He can never divorce her as long as he lives. ( NIV Bible, Deuteronomy 22:28)”

কিছু খ্রিষ্টান বিশ্বাস করে তালমুদে বহু বিবাহ নিষিদ্ধ।এর জন্য তারা তালমুদ থেকে একটি আয়াত এমনভাবে উপস্থাপন করে-

Deut 17:17 Neither shall he multiply wives for himself.

তারা আয়াতটির উক্ত অংশ উপস্থাপন করে এটা বোঝাতে চায় যে ঈশ্বর ঠিকই বহু বিবাহ নিষিদ্ধ করেছে কিন্তু রাজা/বাদশাহরা তা উপেক্ষা করেছে।যার কারণে নাকি তাদের পরে অনেক দূর্ভাগ্য গ্রহণ করতে হয়েছে।

জবাবঃ

NIV Bible থেকে আয়াতটি দেখা যাক

“The king, moreover, must not acquire great numbers of horses for himself or make the people return to Egypt to get more of them, for the LORD has told you, ‘You are not to go back that way again.’ He must not take many wives, or his heart will be led astray. He must not accumulate large amounts of silver and gold. ( NIV Bible, Deuteronomy 17:16-17)”

কোনভাবেই Deuteronomy 17:17 বহু বিবাহ নিষিদ্ধ করে না।এটা রাজাদের অনেক স্ত্রী রাখাকে নিষিদ্ধ করে।আমি চিন্তা করি এর সীমা কোথায়? নিশ্চয়ই এর সীমা মাত্র একটি স্ত্রীর মধ্যে আবদ্ধ না।”Many wives” কথাটি পরিষ্কার প্রমাণ করে-

১)একজন পুরুষ একের অধিক স্ত্রী রাখতে পারবে কিন্তু অনেক না।

২)এটার সীমা একটি স্ত্রীর মধ্যে আবদ্ধ রাখে না।আমি জানি না কোথায় খ্রিষ্টানরা এই আয়াতে একটি স্ত্রী রাখার সীমাবদ্ধতা খুঁজে পায়।

আবারও,এই আয়াত শুধু রাজাদের কথা বলছে,আরও সুস্পষ্টভাবে একজন রাজার একটা দীর্ঘ ঘটনার কথা বলা হচ্ছে।এটা আরও পরিষ্কার বোঝায় এই নিষেধ একজন রাজার জন্য,সবার জন্য না।আমি ব্যক্তিগতভাবে গুরুত্ব দেই না বাইবেলের নবীদের কয়জন স্ত্রী ছিল বা সে সময় স্ত্রী রাখার সীমাবদ্ধতা কতজনের মধ্যে ছিল।আমার কথা এখনও এটাই যে OT(Old Testament) এবং NT(New Testament) এ বহু বিবাহের অস্তিত্ব আছে।

তাছাড়া একজন কীভাবে বলে যে তালমুদ বহু বিবাহ নিষিদ্ধ করে যেখানে পরিষ্কার বলা আছে “If a man has two wives, and he loves one but not the other, and both bear him sons….” (Deuteronomy 21:15) আবার Exodus 21:10 এ যেখানে অনুমোদন দেয় একজন পুরুষ অসংখ্যা নারী বিয়ে করতে পারবে।আবার এ বিষয়টি সম্পূর্ণ অবহেলা করা হচ্ছে যে Deuteronomy 17:17 ‘রাজাদের বা একজন রাজার’ কথা বলছে এবং সাধারণ মানুষদের না।তাই যদি খ্রিষ্টান্দের এই অনুবাদটা সঠিকও হত তাও এটা কোনভাবেই আমার কথাকে মিথ্যা প্রমাণ করে না।

কিছু খ্রিষ্টান এরূপ বক্তব্য উপস্থাপন করে যে,”তালমুদে রাজা সোলায়মানের শত শত স্ত্রী এবং উপত্নী ছিল এটা সঠিক।কিন্তু তিনি এর কারণে পথভ্রষ্ট হয়ে যান (1 Kings 11:1-4) এবং এটা বহু বিবাহকে বাইবেলে পাপ এবং নিষিদ্ধ কাজ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।”

জবাবঃ

চলুন NIV বাইবেল দেখা যাক

1 Kings 11

Solomon’s Wives

1 King Solomon, however, loved many foreign women besides Pharaoh’s daughter-Moabites, Ammonites,Edomites, Sidonians and Hittites.
2 They were from nations about which the LORD had told the Israelites, “You must not intermarry with them, because they will surely turn your hearts after their gods.” Nevertheless, Solomon held fast to them in love.
3 He had seven hundred wives of royal birth and three hundred concubines, and his wives led him astray.
4 As Solomon grew old, his wives turned his heart after other gods, and his heart was not fully devoted to the LORD his God, as the heart of David his father had been.

1 Kings 11:2 এ আমরা পরিষ্কার দেখতে পাই একাধিক স্ত্রী এবং বহু বিবাহের কথা কোথাও নিষিদ্ধ করা হয় নি এবং এটাকে পাপও বলা হয় নি।এখানে শুধুমাত্র সোলায়মানের সাথে প্যাগান নারীদের বিয়ে নিষিদ্ধ করা হয়েছে কারণ তারা সকলেই মূর্তিপূজারী ছিল এবং যার কারণে তিনি সেসব প্যাগান ভগবানদের অনুসরণ করা শুরু করে দেন।আমি এখানে সাধারণ অর্থে নির্দিষ্টভাবে কোথাও বহু বিবাহকে নিষিদ্ধ করার বিষয়টি খুঁজে পাই না এই আয়াতটিতে।যেখানে তালমুদে পরিষ্কারভাবে বহু বিবাহ অনুমোদন করছে( 1 Kings 11:1-4 ও যেখানে তালমুদে আছে) “If a man has two wives, and he loves one but not the other, and both bear him sons….( NIV Bible, Deuteronomy 21:15)”

নিচে কিছু খ্রিষ্টান সাইটের লিঙ্ক দিলাম যা কি না বহু বিবাহের সাথে একমত পোষণ করে

http://www.truthbearer.org/
http://www.bfree.org/
http://www.christianpolygamy.com/
http://www.biblicalpolygamy.com/

পরিশেষে বলতে হয়,

খ্রিষ্টানরা বহু বিবাহ চর্চা করে কি করে না এতে আমার কিছু যায় আসে না।তারা একটা স্ত্রী রাখুক বা দশটা স্ত্রী রাখুক বা বিয়েই করল না এটা তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার।কিন্তু তারা যদি এ বলে যে বাইবেল বহু বিবাহ নিষিদ্ধ করে তবে সেখানে আমার আপত্তি।আশা করি খ্রিষ্টানরা এখন থেকে “ইসলামে কেন বহু বিবাহ আছে,নবী (স) কেন বহু বিবাহে লিপ্ত ছিলেন” এসব প্রশ্ন না করে নিজের চাকায় তেল দেয়া উচিৎ।ইসলামের এসব যৌক্তিক এবং নৈতিক বিষয়কে তারা অযৌক্তিক এবং অনৈতিক হিসেবে প্রচার করে যাচ্ছে অথচ তাদের নিজের ধর্মগ্রন্থেই যে বহু বিবাহ অনুমোদন করে এটা তারা জেনেও মুখে তালা দিয়ে রাখে।একই দিকে ইসলাম বিদ্বেষীদের চোখে শুধু ইসলামের বহু বিবাহই দেখা যায়।বাইবেলের না।অবশ্য বাইবেলের বহু বিবাহ যদি তারা দেখতে পেত তবে কি তারা আজ সম্ভ্রান্ত জীবন-যাপন করতে পারত? খ্রিষ্টান মিশনারীরা তাহলে তাদের টাকা দিত কোন সূত্র ধরে?